হাইকোর্টের রায়: নিরাপদ পানির অধিকার এখন মৌলিক অধিকার

News

০১ জানুয়ারী ২০২৬

এক যুগান্তকারী রায়ে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত ঘোষণা করেছে যে নিরাপদ পানযোগ্য পানি পাওয়া নাগরিকের একটি মৌলিক অধিকার। এই রায় দেশের পানি শাসনব্যবস্থা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আর্সেনিক দূষণ, নগর পানিসংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান চাপের প্রেক্ষাপটে এই রায়কে পানি ন্যায়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের উচ্চ আদালত একাধিক রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে নিরাপদ পানি পাওয়া একটি মৌলিক মানবাধিকার, যা সংবিধানের জীবনের অধিকার (অনুচ্ছেদ ৩২) এবং মানবিক মর্যাদার অধিকার এর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা ছাড়া জনস্বাস্থ্য, মানবিক জীবন ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

আদালতের নির্দেশনা: রাষ্ট্রের করণীয় কী

নিরাপদ পানযোগ্য পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালত সরকারকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

  • দেশের সকল পানির উৎস যেন ক্ষয়িষ্ণু না হয়, শুকিয়ে না যায় এবং দূষিত না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
  • পানির উৎস রক্ষা ও পানি মান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী-

  • আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক স্থানে—যেমন রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল, বিমানবন্দর, হাট-বাজার, শপিং মল, সরকারি হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয়, সকল সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আদালত ও আইনজীবী সমিতি, প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকা এবং লবণাক্ত উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ পানযোগ্য পানি নিশ্চিত করতে হবে।
  • আগামী ১০ বছরের মধ্যে, বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে নিরাপদ পানি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী মূল্যে পানযোগ্য পানি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
  • ২০২৬ সালের মধ্যে, সকল পাবলিক প্লেসে নিরাপদ ও বিনামূল্যে পানি সরবরাহে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে সে বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই রায়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ওপর একটি সুস্পষ্ট আইনগত দায় আরোপিত হয়েছে যে প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী পানির নিশ্চয়তা প্রদান।

Leave a Reply